বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমাদের মত অনেক
মানুষকেই এমন একটি সংকটের সম্মুখীন হতে বাধ্য করছে যার তুল্য সংকট প্রায় একটি গোটা
প্রজন্মেরই অজানা। আমাদের সাধ্যমত সংকটের স্বরূপ বিশ্লেষণ করে যে ক’টি দিক উঠে
আসছে তা হ’ল –
১। পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতা থেকে বামপন্থীদের অপসারণ এক অনিবার্য
পরিণতিকে নির্দেশ করে, যা একাধারে বিগত তিন দশক ধরে বামপন্থী রাজনীতির ফলিত
প্রয়োগে আত্মঘাতী বিচ্যুতি ও তার ফলস্বরূপ রাজনৈতিক মননে এক অভূতপূর্ব শূণ্যতার সৃষ্টি
করেছে।
২। তিন দশকের বেশি শাসনক্ষমতা হাতে পেয়েও
রাজ্যের বামপন্থীরা রাজনৈতিক সচেতনতা প্রসারে উদ্যোগী না হয়ে সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি
অরাজনৈতিক করে তুলেছিলেন যার অনিবার্য ফলশ্রুতি সাম্প্রতিকতম নির্বাচনে শিকড়হীন
শিল্পী, চিত্রতারকা বা ক্রীড়াবিদদের জয়।
৩। বিরোধী শাসনের তিন বছর অতিক্রান্ত হ’বার পরেও বামপন্থী রাজনীতির (স্পষ্ট
করে বলা ভাল, সংসদীয় বাম-রাজনীতি ও আরো সুনির্দিষ্ট ভাবে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট
সরকার) প্রতি মানুষের বিশ্বাসহীনতা কাটেনি, বরং প্রতিবাদী ও লড়াকু কর্মসূচীহীনতা
বাম-আন্দোলনের জমিকে আরো বন্ধুর করে তুলছে প্রতিনিয়ত।
৪। প্রতিবাদী ও সমালোচনামূলক কন্ঠস্বর ও ক্রিয়াকান্ডের প্রতি বর্তমান শাসকের
সহনশীলতার চুড়ান্ত অভাব, ও সময় সময় দমননীতি প্রয়োগ এক ভীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে
যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
৫। সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্ক বা মতাদর্শগত সংগ্রামের পথ সম্পুর্ণ রুদ্ধ হয়ে
গিয়েছে।
৬। শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের (Civil Society) প্রতিবাদী সক্রিয়তা যা ২০০৯-১১তে শেষবার দেখা গিয়েছিল তা বিলীয়মান, এবং
অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপে বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও নানা সুবিধার খোঁজে
শাসকের তালে তাল মিলিয়ে চলেছেন। তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর একটি বিরাট অংশের এই
সুবিধাবাদী অবস্থান গ্রহণ ও নিষ্ক্রিয়তা এক নতুন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একটি
বিশেষ রাজনৈতিক আনুগত্য ভিন্ন সুশীল সমাজের রাজনৈতিক-দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীন মতামত
বিনিময়ের কোন ক্ষেত্রের অস্তিত্ত্ব অন্তত প্রকাশ্যে আর নেই। ফলে, চিন্তার জগতে
নতুন ও প্রগতিশীল দিশার সন্ধান আপাততঃ দেখা যাচ্ছে না।
৭। শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য বাড়ছে, বাড়ছে কর্মহীনতা, তাল মিলিয়ে বাড়ছে
লুম্পেন সংস্কৃতি। বিশেষতঃ কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ও সদ্য যুবদল এই লুম্পেন
সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারছে না। ধারাটি বিশ্বায়নের সূচনাপর্ব থেকেই ক্রমান্বয়ে
সক্রিয় ছিল, গত চার-পাঁচ বছরে তার কলুষ আরো প্রকটিত হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের প্রশ্রয়ে
এই লুম্পেন সংস্কৃতি পুষ্টিলাভ করছে।
৮। মিডিয়ার অতিক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি বড় অংশ শাসকের বিচ্যুতি
নিয়ে সতত সরব। এবং সেখানেও শাসকের তরফে ঘোর অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
৯। আইনের শাসন বহুক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে, এবং একটি
বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী-সদস্যদের সকল অবৈধ / বেআইনী ক্রিয়াকলাপ
শীর্ষনেতৃত্ত্বের প্রশ্রয়লাভ করছে প্রকাশ্যে, এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ও
মুক্ত জীবনযাপনে আইন ও পুলিশী ব্যবস্থার সহায়তা দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
১০। সামগ্রিকভাবে সামাজিক সুরক্ষার ঘোর অবনতি ঘটেছে, বিশেষতঃ নারীদের
সামাজিক নিরাপত্তা আজ বিরাট প্রশ্নের সম্মুখীন।
১১। পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষস্থল থেকে প্রদেশের ভোটরাজনীতির অংকের
স্বার্থে সংখ্যালঘু-উন্নয়নের নামে নগ্ন সংখ্যালঘু-তোষণ চলছে, অনেক ক্ষেত্রে
সংবিধান অমান্য করে। ফলে এই প্রদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর এক বিপুল অংশের মননে অজান্তেই
সাম্প্রদায়িক ভেদভাবনার বীজ উপ্ত হচ্ছে।
১২। গণতন্ত্রের মূল (প্রাতিষ্ঠানিক) স্তম্ভ যথা, নির্বাচন কমিশন,
মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদিকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা ও দুর্বল করে
দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রশাসনের তরফে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে স্বৈরাচারী
শাসনের হাত শক্ত করছে।
১৩। পর্যবেক্ষণ ৩ থেকে ১২-এর মুখচ্ছবি আমাদের ফ্যাসীবাদী শাসনকেই মনে
পড়ায়। এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এর অবশ্যম্ভাবী ফলাফল প্রতিক্রিয়াশীল ও
সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান।
১৪। বিগত বিধানসভা নির্বাচন চুড়ান্তভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে দেশের বর্তমান
নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটা কার্যত অসম্ভব, কারণ তা একান্তভাবে
শাসকের সদিচ্ছানির্ভর।
আমরা আরো লক্ষ্য করছি যে -
১। মধ্যবিত্ত বাঙালীর শ্রেণীচরিত্রে
বিগত অর্ধশতাব্দী যাবত যে দোষটি ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে আজ আত্মধ্বংসী আকার ধারণ
করেছে তা হল ব্যক্তিস্বার্থের ক্ষুদ্র গণ্ডীর বাইরে বেরিয়ে বৃহত্তর সামাজিক
স্বার্থে ভাবনাচিন্তার অনীহা ও নিজেকে ওই বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে নিয়োজিত করবার
ঘোর অনিচ্ছা।
২। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর
পশ্চিমবঙ্গে শাসনক্ষমতা হাতবদল হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অপ্রাপ্তি ও অসন্তোষের কোন
সুরাহা হয়নি, তাই তথাকথিত ‘পরিবর্তন’ কথাটি মানুষের জীবনযাত্রার মানের গুণগত
উন্নতির নিরিখে প্রযোজ্য নয়।
৩। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ তাঁদের
আর্থ-সামাজিক অবস্থান/পরিস্থিতি বিচারে সক্ষম, তাই তাঁরা তিন বছর আগে বামের বিকল্প
হিসেবে, অনেকেই হয়তো কিছুটা নঞর্থ্যক অবস্থান থেকে (অর্থাৎ, বামের বিকল্প ভাল না
খারাপ সে বিচারের চেয়েও, বামেরা খারাপ তাই তারা আপাতত ক্ষমতা চ্যুত হোক, এমন ভাবনা
থেকে) বর্তমান শাসকদলকে ক্ষমতায় এনেছিলেন।
কিন্তু অল্প কিছু সুবিধাভোগী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী বাদে নতুন সরকার বৃহত্তর
জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তাই বিকল্প অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি, বিগত
লোকসভা ভোটের ফলাফলে সেটা বোঝা যাচ্ছে।
৪। অর্গলমুক্ত ও স্বাধীন মিডিয়া গণতন্ত্রের
অন্যতম স্তম্ভ মেনে নিয়েও মনে রাখা প্রয়োজন, মিডিয়া যেহেতূ মূলতঃ
ব্যক্তিপুঁজি-নিয়ন্ত্রিত ও বাজার এবং মুনাফামুখী, তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামাজিক
উন্নয়নে বিপ্লবী ভূমিকাগ্রহণ তার মূল অভিলক্ষ্য নয়। বরং, মিডিয়ার বড় অংশের বর্তমান
শাসকের প্রতি কঠোর সমালোচনামূলক অবস্থান প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থায় তাদের এই
অবস্থান নেওয়ার আপেক্ষিক চাহিদা যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে তা প্রমাণ করে।
মিডিয়ার বড় অংশের এই অবস্থানগ্রহণ থেকে বর্তমান শাসকের নানাবিধ ক্রিয়াকলাপকে
অপছন্দ ও সমালোচনা করবার বাজার যে উত্তরোত্তর তেজি হচ্ছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। যদিও
মনে রাখতে হবে, মিডিয়ার এই আপাতঃ প্রগতিশীল অবস্থানগ্রহণ কোনোভাবেই প্রগতিশীল
বামপন্থার পুনর্জাগরণে সদর্থক ভূমিকা গ্রহনের উদ্দেশ্যে নয়।
৫। কেবল সুবিধাবাদই নয়, তীব্র সামাজিক বিপন্নতা ও বহু ক্ষেত্রে নিছক
অস্তিত্ত্বের সংকট থেকে মুক্তি পেতে মূলতঃ নীচুতলার বহু বামপন্থী কর্মী
প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা মনে করছি
যে যে সুস্থ ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারা আমাদের উত্তরাধিকার,
তাকে পুনর্জ্জীবিত করবার প্রয়াসে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। আমাদের আর্থ-সামাজিক
অবস্থান এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের পালন করতে প্রেরণা দিচ্ছে।
১৯৩৮ সনের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায়
‘প্রগতি লেখক সংঘ’-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে (সম্মেলনের সম্পাদক মণ্ডলী – মুলকরাজ
আনন্দ, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, পন্ডিত সুদর্শন, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বুদ্ধদেব বসু)
গৃহীত ইস্তাহারটি আজকের পরিস্থিতিতে আরেকবার সযত্ন পুনর্বিবেচনা দাবী করে –
“...সনাতন সংস্কৃতিতে ভাঙ্গন ধরার
সঙ্গে সঙ্গে আমাদের (সাহিত্যে) আটপৌরে জীবনের বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাবার আত্মঘাতী
প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ...ফলে তার ভাবসম্পদ হয়েছে রিক্ত ও বিকৃত...যুক্তিবাদকে
(সাহিত্যে) প্রতিষ্ঠিত করে প্রগতিকামী মননধারাকে বেগবান করা আমাদের (লেখকদের)
কর্তব্য...সাম্প্রদায়িকতা, জাতিবিদ্বেষ, যৌন স্বৈরাচার, সামাজিক অবিচারের যে ছায়া
(সাহিত্যে) পড়েছে, তার অপসারণের জন্য (তাঁদের) সর্বদা সচেতন থাকতে হবে...আমরা চাই
জনজীবনের সঙ্গে সর্ববিধ কলার নিবিড় সংযোগ...ভারতীয় সভ্যতার যা কিছু শ্রেষ্ঠ আমরা
তার উত্তরাধিকার দাবী করি। আমাদের দেশে নানারূপে যে প্রগতিদ্রোহ আজ মাথা তুলেছে
তাকে আমরা সহ্য করব না...যা কিছু আমাদের নিশ্চেষ্টতা, অকর্মণ্যতা, যুক্তিহীনতার
দিকে টানে, তাকে আমরা প্রগতিবিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান করি। যা কিছু আমাদের
বিচারবুদ্ধিকে জাগ্রত করে, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতিকে যুক্তিসঙ্গতভাবে পরীক্ষা করে আমাদের কর্মিষ্ঠ,
শৃঙ্খলাপটু, সমাজের রূপান্তরক্ষম করে, তাকে আমরা প্রগতিশীল বলে গ্রহণ করব”। (বন্ধনীর মধ্যে রাখা শব্দগুলি মূল প্রস্তাবের
অংশ, বন্ধনীর মধ্যে রাখবার একমাত্র উদ্দেশ্য, এই ইস্তাহার যে কেবল সাহিত্যচর্চার
ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, এর ব্যাপ্তি যে আরো অনেক বড় তা স্পষ্ট করা)
এই প্রগতিবাদ হাতিয়ার করে একাধারে
বিশ্বায়ন-প্রক্রিয়ার নানা অমানবিক ক্রিয়াকান্ড ও আমাদের প্রদেশে উত্তরোত্তর হিংস্র
হয়ে উঠতে থাকা ফ্যাসীবাদী শাসনকে যুগপৎ প্রতিহত করতে আমাদের আজ এক ঐতিহাসিক
দায়িত্বপালনে সচেষ্ট হতে হবে। আপাতত আমাদের যে সমস্ত কাজে ব্রতী হওয়া যেতে পারে তা
হল –
১। যে যে ক্ষেত্রে কর্মরত বা
সামাজিকভাবে জড়িত আছেন, সেখানে সহমর্মী (এই দলিলে যা যা বলা হল তার সঙ্গে মোটের
উপর সহমত পোষণ করেন এমন মানুষ) ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ
স্থাপন, মতের আদানপ্রদান – তাঁদের মনে এই আস্থার সঞ্চার করা যে, তাঁদের
চিন্তাভাবনা ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁরা সঙ্গীহীন নন, বরং বহু মানুষ এই
একই মতামত পোষণ করছেন, কিন্তু এক্ষুণি হয়ত পথে নেমে আন্দোলনে যাবার মত সক্রিয় নন
বা নানা ভয়ভীতি বা বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদে মুখর হতে পারছেন না।
২। কর্মস্থল, বাসস্থান বা অন্যান্য
সামাজিক ক্ষেত্রে ভাল যোগাযোগ আছে এমন মানুষদের সঙ্গে যোগসুত্র স্থাপন করা ও
তাঁদের মারফত আরো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা, বিশেষতঃ তরুণ-তরুণী
ও নব্য যুবাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা।
৩। সমমনস্ক সংগঠনগুলির সাথে (যথা,
বঙ্গীয় বিজ্ঞান মঞ্চ) নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন ও তাদের কর্মকান্ডে সামিল হওয়া।
৪। তরুণতরুণী ও নব্য যুবাদের সামিল করে
ধারাবাহিকভাবে কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সংগঠনের চেষ্টা করা, যথা
সেমিনার, ডকুমেন্টারি ফিল্ম শো, বিতর্ক সভা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, স্থানীয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নানা বিষয়ে (যথা, পরিবেশ-সংরক্ষণ, সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতা,
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি) বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য
পথনাটক, পোস্টার প্রদর্শনী / প্রতিযোগিতা ইত্যাদির ব্যবস্থা করবার চেষ্টা করা,
দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ প্রভৃতি। স্রেফ একদিন একটি রক্তদান শিবির করে
হাত ধুয়ে ফেললে চলবে না।
৫। জাতীয় ও স্থানীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে
ভুক্তভোগীদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
৬। বামপন্থী কর্মী, বিশেষতঃ যাঁরা
হতাশাগ্রস্ত বা ভীত বা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পার্টির সঙ্গে সংস্রব রাখছেন না, ফলে এক
অভূতপূর্ব শূণ্যতার যন্ত্রণায় ব্যথিত, তাঁদের এই কর্মকান্ডে সংযুক্ত করা যাতে
তাঁরা বামপন্থায় প্রত্যয় ফিরে পান।
৭। নানা সরকারী ও অসরকারী আর্থ-সামাজিক
সর্বেক্ষণ-ভিত্তিক (Survey) প্রকল্প (Project) যোগাড়ের চেষ্টা করা, এবং তাতে তরুণতরুণী, যুবা ও কর্মীদের নিয়োজনের
ব্যবস্থা করা।
৮। একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে এবং
সম্মিলিত মতামত ওয়ার্কশপের মাধ্যমে সংগৃহীত করে, নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সংস্কারের
প্রস্তাব তৈরী করা, যাতে আরো বেশী সংখ্যক মানুষ স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার
প্রয়োগের সুযোগ পান। এই প্রস্তাবনা বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে
পাঠানো যেতে পারে।
(যাঁরা মনে করছেন, এ রাজ্যে যেমন সব
চলছে তা ঠিকঠাক চলছে না, সেই সব সমমনস্ক বন্ধুদের মতামত বিশেষ ভাবে প্রার্থনা করি)
