(একটি অক্ষম অনুবাদ) উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের লুসি গ্রে অবলম্বনে, যেখানে কবির
লুসি একটি প্রাণোচ্ছল গ্রাম্য বালিকা, যে এক তুষারঝড়ের রাতে বনপথে শহর-ফিরতি তার
মা’কে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি...
প্রায়শঃই শুনি আমি লুসির স্বর
দূর-দূর পাহাড়ের বনের ‘পর
একদিন দৈবাৎ মিলেছিল দেখা
বনপথে চলেছে লুসি গ্রে একা।
বন্ধু ছিল না কোনো, সখিরাও পর,
নির্জন প্রান্তরে ছিল তার ঘর।
সাথে নিয়ে স্বর্গের একঝাঁক খুশি,
পৃথিবীতে এসেছিল সুন্দরী লুসি।
হলদে হরিণী নাচে নীল বনছায়ে,
সাদা খরগোশ ছোটে চঞ্চল পায়ে
লাল প্রজাপতি দেয় বুক ভরা প্রীতি
লুসি আজ নেই, শুধু রয়ে গেছে স্মৃতি।।
*************
“ওরে লুসি, লন্ঠন হাতে নিয়ে যা রে
হিম-হিম হাওয়া আর অঝোর তুষারে
মা তোর বুঝি হায় হারিয়েছে দিশা,
(উঃ), আজ যে কি ভয়ানক দুর্যোগের নিশা”!
“ওঃ বাবা, নিশ্চই যাব আমি ছুটে,
এখনো আকাশে চাঁদ আছে ফুটফুটে
বাজল কেবল ছ’টা,
সময় আছে মেলা
হোক না যতই ঝড়,
ভর সন্ধ্যবেলা”!
“ওরে সোনামণি
তুই”, বাবা ভারি খুশি,
লন্ঠন হাতে নিয়ে
পথে নামে লুসি।
বাবা ফের তড়িঘড়ি
মন দেন কাজে,
গির্জের ঘড়িটিতে
ঠিক ছ’টা বাজে।
*********
ঝিরঝির ঝরছেই হিমেল তুষার,
একা লুসি চলে
সুনসান চারিধার
পাখীরাও জবুথবু গাইছে না গান,
নিশ্চুপ চরাচর বরফে শয়ান।
নির্জন বনমাঝে পথ গেছে বেঁকে
ঘোর কালো ঝোড়ো মেঘ চাঁদ দিলো ঢেকে
কোত্থাও কেউ নেই পথ বাতলাতে,
লুসি মা’কে খুঁজে ফেরে সেই হিম রাতে।
কত পথ উঁচু নীচু, লুসি ওঠে নামে,
শহরটা কোন দিকে, ডাইনে, না বামে ?
ঠিক এই অসময়ে ঝড় হ’ল শুরু
বিদ্যুৎ আর বাজ ডাকে গুরু-গুরু;
দুর্যোগ বেড়ে গেলো এককাঠি আরো –
লন্ঠন শিখা ভয়ে কাঁপে থরোথরো...
**********
লুসি ফিরছে না দেখে বাবা ভেবে সারা,
মা তো একা ফিরে এল, লুসি পথহারা ?
বাপে-মায়ে মেয়েটিকে খোঁজে একসাথে
কোথায়ই বা পাবে তাকে, এই ঘন রাতে ?
ঝোড়োরাত উদাসীন নিকষ আঁধার,
তুষারেই মুছে গেছে পদরেখা তার...
পূবাকাশে দেখা দেয় ভোর-ভোর আলো
বেদনায় কেঁপে উঠে তারা থমকালো !
এক ফার্লং দূরে ঝড়ে ভাঙ্গা সেতূ
বলে দেয় লুসি গ্রে-র না-ফেরার হেতূ।
নির্বাক বাপ-মা’র আর্ত বিষাদ,
সামনেই অতল এক নিঃসীম খাদ।
শোকাহত বাপ-মা’র বিদীর্ণ আশা,
দুই চোখ ভরে নামে শেষ ভালবাসা।
*********
আজো আমি সেই বনপথে শুনি যেন –
বাতাসেরা শিস দিয়ে বলে যায় কেন,
দিশাহীনা একাকিনী শেষতম সুরে
গান গেয়ে মা’কে খোঁজে কোন মায়াপুরে!